Wednesday, 29 April 2020

কেউ কেউ কথা রাখে-মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন


কেউ কথা রাখেনি” সুনীল গঙ্গোপাধ্যয়ের অত্যন্ত বিখ্যাত একটি কবিতার শিরোনাম। কথাগুলো বেশ কাব্যিক ধরনের। তবে “কেউ কেউ কথা রাখে” কোন কবিতার বই নয়, বরং একটা চমৎকার থ্রিলার উপন্যাস। লেখক-মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন।
উপন্যাসের সময়টা ১৯৭২। নববিবাহিত এক তরুণীকে (মিলি) ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে— তদন্তে জড়িয়ে পড়েছেন দুইজন পুলিশ অফিসার, একজন আবার আমাদের লেখক স্বয়ং। মিলির স্বামী মিনহাজের সাথে কথা বলার সময় কিছু ফটোগ্রাম লেখকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফটোগ্রাফগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে লেখকের সন্দেহ হয় ফটোগ্রাফের একজনের উপর। ছবির ব্যক্তির সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে লেখক হানা দেন মিলির বান্ধবীর (রামজিয়া শেহ্‌রিন) বাড়িতে। এই রামজিয়া শেহ্‌রিন অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি চরিত্র এই গল্পে। প্রথম দিনই রামজিয়ার প্রতি দূর্বল হয়ে পড়েন লেখক। থ্রিলার উপন্যাসে দেখায় দেয় রোমাঞ্চ। 

বর্ণপরিচয়-ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর


আশির দশক কিংবা তার আগে যাদের জন্ম তাদেরকে সম্ভাবত বর্ণ পরিচয় সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই।
তবে বর্তমান সময়ের ছেলেমেয়েরা সম্ভাবত এই বইটির নামও শোনেনি। “বর্ণপরিচয়” ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত একটি বাংলা বর্ণশিক্ষার বই। বইটি দুটি খন্ডে (প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ) বিভক্ত। প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৫৫ সালের এপ্রিল মাসের ১৩ তারিখ। তখনকার সময়ে দুই পয়সা মূল্যের এই ছোট্ট বইটি বাংলাভাষাবাসীদের শিক্ষা ক্ষেত্রে এক মহাবিপ্লব সৃষ্টি করেছিল। বর্ণপরিচয় এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি শিশুদের উপযোগী সহজবোধ্য ও সংক্ষিপ্ত বাক্যের সমন্বয়ে রচনা করা হয়েছে। শিশু বর্ণক্রমিক পদ্ধতিতে বর্ণ শিখবে, বর্ণের সঙ্গে মুখে মুখে ছোট ছোট শব্দ শিখবে, এরপর বর্ণপরিচয়-এর পরীক্ষা, তারপর বর্ণযোজনা ও ফলা সংযোগে বানান শেখার সূচনা। এরপর রয়েছে সহজবোধ্য ছোট বাক্যের ছোট ছোট প্রাঞ্জল গদ্য রচনা। 

ডিসেপশন পয়েন্ট-ড্যান ব্রাউন


“দ্যা ভিঞ্চি কোড” ড্যান ব্রাউনের সবচেয়ে আলোচিত একটি বইয়ের নাম এবং অবশ্যই আমার পড়া একটি সেরা থ্রিলার “দ্যা ভিঞ্চি কোড” পড়ার পর ড্যান ব্রাউনের বেশ ভক্ত হয়ে যাই আমার পড়া ব্রাউনের লেখা দ্বিতীয় বইয়ের নাম “দ্যা লস্ট সিম্বল” আর মাত্র গতকালই শেষ করলাম ড্যান ব্রাউনের লেখা আরো একটি চমৎকার থ্রিলার “ডিসেপশন পয়েন্ট” বইটা পড়ার সময় সত্যিই মনে হয়েছে এটা একটি থ্রিলার থ্রিলার বলতে সাধারণত যা বোঝায় অর্থাৎ রহস্য, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা, উত্তেজনা,নাটকীয়তা সবকিছুই চমৎকারভাবে উপস্থিত হয়েছে “ডিসেপশন পয়েন্ট” বইটিতে। 
বইটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যার সাথে যুক্ত হয়েছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA ফলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা একটা ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে কাহিনীর শুরুতে দেখা যায় সিনেটর সেজউইক স্যাক্সটন তার একমাত্র মেয়ে র‍্যাচেল স্যক্সটনের সাথে একটি রেস্টুরেন্ট দেখা করছেন 

অষ্টম শ্রেনির বাংলা বহুনির্বাচনী প্রশ্ন


১।     কোন গল্পটি পাঠে শিক্ষার্থীর মধ্যে কর্তব্য পরায়ণতা ও নৈতিকতার চেতনা সৃষ্টি হবে?
ক) অতিথির স্মৃতি              খ) পড়ে পাওয়া
গ) তৈলচিত্রের ভূত      ঘ) সুখী মানুষ
০২।    বাংলা সাহিত্যে কালজয়ী কথাশিল্পী বলা হয় কাকে?
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর                  
খ) বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যয়
গ) শৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়                
ঘ) মানিক বন্দোপাধ্যয়

Tuesday, 28 April 2020

আপনাকে বলছি স্যার

“কোন হাসপাতাল যদি কেবল সুস্থ্য ব্যক্তিদের পরিচর্যা করে আর রোগাক্রান্তদের বাদ দেয় তাহলে তাকে কি বলা হবে?”
এমন প্রশ্নই করা হয়েছে গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে আপনাকে বলছি স্যার” বইটিতে। প্রথাগত শিক্ষা ব্যবস্থায় আমরা আসলে এই ব্যপারটিকে ঘটতে দেখি প্রতিনিয়ত। যেখানে এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়া হয়, পুরস্কৃত করা হয় আর ব্যর্থদের, ফেল করাদের বাদ দিয়ে দেওয়া হয় স্কুল থেকে। কিন্তু এই ব্যবস্থা মেনে নিতে পারেননি একজন, তিনি ফাদার মিলানি (পুরো নাম ডন লোরেঞ্জো মিলানি)। মিলানি ১৯৫৪ সালে বারবিয়ানা চার্চে (ইতালি) যোগদান করেন। যোগদানের পর তিনি বারবিয়ানাতে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন যেটা ছিল প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। বিদ্যালয় থেকে বাদ পড়া ছেলেমেয়েদের নিয়েই গড়ে উঠেছিল তার বিদ্যালয়টি। এই ব্যতিক্রমী বিদ্যালয়টির শিক্ষা পদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে পুরোন ছাত্রেরা অনেক সময়ই নতুনদের পড়াত, আর শিক্ষার অঙ্গ হিসেবে পড়ুয়াদের সমাধান করতে হত তাদের প্রাত্যহিক জীবনের নানা সমস্যাএই ব্যতিক্রমী বিদ্যালয়টিই সে সময় সাড়া জাগিয়েছিল সমগ্র ইতালীজুড়ে।

Monday, 27 April 2020

নাস্তিক পন্ডিতের ভিটা


যখন বৃক্ষরাজির ভিতর দিয়ে বহে যাবে সমুষ্ণ বাতাস
নদীর উপর ছায়া ফেলবে গোধূলিকালীন মেঘ
পুষ্পরেণু ভেসে আসবে বাতাসে
আর পালতোলা নৌকা ভেসে যাবে বিক্ষিপ্ত  স্রোতধারায়….
সহসা অবলুপ্ত দৃষ্টি ফিরে পেয়ে তুমি দেখবে—
আমার কেশপাশে বিজড়িত রয়েছে অস্থিনির্মিত মালাঃ
তখন--- কেবল তখনই আমি তোমার কাছে আসব…

একাদশ শতকে কুন্তলা নামে এক নারী এই কথাগুলো বলে হারিয়ে গেল মৃত্যুর অতল গহ্বরে। কিন্তু কার কাছে ফিরে আসার অঙ্গীকার করে গেলেন কুন্তলা? চন্দ্রগর্ভ বা পন্ডিত অতীশ দীপংক­র। তারপর কি হলো?
এই প্রশ্নই আমাকে ব্যক্তিগতভাবে এই বইটি সম্পূর্ণ করতে উৎসাহিত করেছে। 

Tuesday, 21 April 2020

বই পর্যালোচনা লিখবেন যেভাবে


(একটি উইকিহাউ অনুবাদ)  
কোন বই সম্পর্কে আলোচনা করা মানে বইয়ের সারাংশ বলা নয়, বইটি সম্পর্কে একটি সমালোচনামূলক আলোচনা করার এটা এক দারুন সুযোগ। আলোচক হিসেবে আপনার ব্যক্তিগত উদ্যোগের সাথে যথাযথ বিশ্লেষণমূলক অধ্যয়নকে একীভূত করে ফেলা উচিত হবে। একটি ভালো আলোচনা পাতায় পাতায় কী আছে তার বর্ণনা দেয়; বইটি নিজ উদ্দেশ্য সাধনে কতটা সফল তার বিশ্লেষণ করে; শেষে একটি অনন্য পরিপ্রেক্ষিত থেকে প্রতিক্রিয়া ও মতামত ব্যক্ত করে।

প্রথম অংশঃ গ্রন্থ আলোচনার জন্য প্রস্তুতি
১. বই পড়ার সাথে সাথে নোট গ্রহণঃ যদি সম্ভব হয় তাহলে বইটি বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার পড়ুন। বারবার একটি বই পড়লে পাঠকের চোখে গল্পের শরীরটি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। গল্পের সজ্জাপদ্ধতি ও চরিত্র বা চরিত্রগুলো নতুন অথবা ভিন্ন আঙ্গিকে ফুটে ওঠে।
বইটি পাঠরত অবস্থায় আপনার মনে যে প্রতিক্রিয়া হবে আর তার সাথে সাথে যে ভাবনাগুলো আসবে তা লিখে ফেলুন অথবা রেকর্ড করে ফেলুন। এলোমেলোভাবে বা ততোটা সঠিক ভাবে না হলেও হবে। আসলে বই পড়ার সাথে সাথে আপনার মনে যে চিন্তা আসবে তার মধ্যে ঝড় তুলে দেয়ার জন্য এই কাজ করা দরকার।