Friday, 26 February 2021

পথের পাঁচালী-বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যয় রিভিউ

 


সালটা ২০০১। নবম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে বছরের শুরুতে পড়ার চাপ নেই বললেই চলে এমন একটা সময়ে স্কুল লাইব্রেরি থেকে একদিন নিয়ে এলাম “পথের পাঁচালি”। এমন একটা কালজয়ী উপন্যাস পড়ার ক্ষেত্রে বয়সটা অপরিনত ছিল কিনা জানিনা, শুধু এটুকু মনে আছে বইটা পড়তে পড়তে এক একবার মনে হয়েছিল পৃথিবীর সবচেয়ে পাষণ্ড মানুষটির নাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যয়। কিশোর বয়সের আবেগী মন বার বার প্রশ্ন করেছিল এত নির্মম, নিষ্ঠুর কিভাবে হতে পারেন একটা মানুষ?

Sunday, 14 February 2021

পুতুলনাচের ইতিকথা-মানিক বন্দ্যোপাধ্যয়


ইতি হল পুতুলনাচের ইতি কথা'র। মানিক বন্দ্যোপাধ্যয় যেভাবে নাচালেন শশী, কুসুম, কুমুদ, মতি, যদব, গোপাল, সেনদিদিরা সেভাবেই নাচলেন। যদি প্রশ্ন করা হয় 'পুতুল নাচিয়ে' হিসেবে কেমন মানিক বন্দ্যোপাধ্যয়? উত্তর এক কথায় 'অসাধারণ'। সত্যি এত চমৎকারভাবে সবাইকে মানিকবাবু নাচিয়েছেন যে, যতক্ষণ পুতুল নাচেরসাথে ছিলাম ততক্ষণ মনপ্রাণ সব ডুবে ছিল পুতুলনাচের ইতিকথায়। পুতুলগুলোর দুঃখ-কষ্ট, আবেগ-অনুভূতিগুলো সব নিজের মধ্যে টের পাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল গাওদিয়া গ্রামের প্রতিটি ইঞ্চি মাটি, বৃক্ষ, লতা-পাতা, নদী সবই যেন চলচিত্রের মত চোখের সামনে ভাসছে।

রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি-মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন


নামটা পড়েই চমকে উঠেছিলাম। শুধু যে অদ্ভুত তা-ই নয়, নামটির মধ্যে কেমন যেন একটা রোমান্টিকতা খুজে পাচ্ছিলাম যদিও জানতাম মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন মোটেও কোন রোমান্টিক উপন্যসের লেখক নয়। এর আগে এই লেখকের “কেউ কেউ কথা রাখে” বইটা পড়েছিলাম। এই বইটা পড়েও বেশ অবাক হয়েছিলাম। কেউ কেউ কথা রাখে- এমন একটি রোমান্টিক নামের আড়ালে কি ভয়ংকর এক থ্রিলার!

Thursday, 11 February 2021

কবি-তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যয়


আপতদৃষ্টিতে গল্প খুবই ছোট এবং সরল। হিন্দু সমাজের পতিততম স্তরের অন্তর্গত ডোম সম্প্রদায়ের সন্তান নিতাই যার পূর্বপুরুষরা কেউ ছিল ভয়ংকর ডাকাত কেউ বা সিধেল চোর। এমন বংশের ছেলে নেতাই কিনা হয়ে গেল কবিয়াল। ঘটনা তখনও অতটা প্রচার পায়নি। সেবার তাদের গ্রামের বাৎসরিক কবিগানের আসরে নির্ধারিত কবিয়াল নোটন টাকার লোভে অন্যত্র পালিয়ে গেলে নেতাইয়ের ভাগ্য খুলে যায়। তর্কযুদ্ধে মহাদেব কবিয়ালের কাছে হেরে গেলেও আশেপাশের পাঁচগ্রামের মানুষ নেতাইকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দিয়েছিল। সবচেয়ে বিস্মিত হয়েছিল তার বন্ধু রাজনের শ্যালিকা যাকে তারা ঠাকুরঝি নামে ডাকত।

ঠাকুরঝি'র কালো রঙে মজে গিয়ে কবি নেতাই লিখে ফেলল, "কালো যদি মন্দ তবে কেশ পাকিলে কাঁন্দ কেনে"। ক্রমেই যখন সে ঠাকুরঝি'র প্রেমে ডুবে যাচ্ছে তখনই আবির্ভাব ঘটে এক ঝুমুরদলের। এই ঝুমুরদলের নর্তকী বসন্তের সাথে তার এক তিক্তমধুর সম্পর্ক তৈরি হয়। তারপর সেই দলের সাথেই সে এখানে সেখানে কবিগান গেয়ে বেড়াতে থাকে।

Tuesday, 9 February 2021

ইন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়

 


একটা দীর্ঘ সময় ধরে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়ই ছিলেন আমার জীবনের সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বের নাম। আসলে এত সহজ ভাষায় গল্প বলার দক্ষতা এবং গ্রাম্য জীবনের প্রাত্যহিক তুচ্ছ ঘটনাকে  চমৎকারভাবে সাহিত্যে ফুটিয়ে তোলা শুধুমাত্র তার পক্ষেই সম্ভব ছিল।

দীপু নাম্বার টু-মুহাম্মদ জাফর ইকবাল


তখন বাড়িতে টেলিভিশন ছিল না। শুক্রবার দুপুরের পর বিটিভি'তে পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচিত্র সম্প্রচারিত হতো বলে পাশের বাড়ির এক কাকু টিভিটা বারান্দায় সকলের দেখার জন্য উন্মুক্ত করে দিতেন। সেদিনও আগ্রহ নিয়ে ছবি দেখতে বসেছি। ছবির নাম "দীপু নাম্বার টু"। ছবির প্রিন্ট অথবা যেকোন কারণে শুরুটা খুব বেশি ভাল লাগল না। তবুও ধৈর্য্য সহকারে দেখে চলেছি। চলতে চলতে কখন যে ছবির মধ্যে পুরোপুরি ডুবে গেছি আমি নিজেই জানি না। ছবিটা শেষ হতে সন্ধ্যা পার হয়ে গেল। সাধারণত সেই সময়ে আমি সন্ধ্যার সাথে সাথেই বাড়ি ফিরে আসতাম। সেদিন কিন্তু ছবিটি শেষ না করে ফিরতে পারলাম না।

Monday, 8 February 2021

মানবজমিন-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যয়

 


শ্রীনাথ, শ্রীনাথের স্ত্রী তৃষা, তাদের ছেলে সজল, শ্রীনাথের মেঝভাই দীপনাথ, তাদের বোন বিলু ও ভগ্নিপতি প্রীতম এবং দীপনাথের বস বোস সাহেব ও তাঁর স্ত্রী মণিদীপা- সব মিলিয়ে এই হচ্ছে মানবজমিন এর প্রধান চরিত্রসমূহ।  

শ্রীনাথ কলকাতায় এক প্রেসে চাকরি করেন। তিনি কিছুটা উদাসীন প্রকৃতির, ভীরু এবং ব্যক্তিত্বহীন। স্ত্রী, পুত্র কন্যাদের নিয়ে রতনপুর গ্রামে থাকেনসংসারে তিনি উপেক্ষিত। প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন স্ত্রী তৃষাই পরিবারের সর্বময় কত্রী। শ্রীনাথের দাদা মল্লিনাথ মৃত্যুর আগে সব সম্পত্তি লিখে দিয়ে গেছেন তৃষার নামে।